সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড বাংলাদেশের দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে অবস্থিত একটি গভীর সামুদ্রিক খাত বা আন্ডারওয়াটার ক্যানিয়ন। এটি প্রাকৃতিকভাবে গঠিত একটি অতল গিরিখাত, যেখানে হঠাৎ করেই পানির গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এটি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মধ্যে সবচেয়ে গভীরতম এলাকা, যা সমুদ্রবিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু ভৌগোলিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের গবেষণা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত মূল্যবান।
অবস্থান ও আকার
- অবস্থান: মংলা / সুন্দরবনের দুবলার চর ও সোনাচর থেকে প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে।
- আয়তন: প্রায় ৩,৮০০ বর্গকিলোমিটার।
- প্রস্থ: প্রায় ১৪ কিলোমিটার।
- গভীরতা: সর্বোচ্চ ১,২০০ মিটার, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম গভীর সামুদ্রিক খাদগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে।
নামের উৎপত্তি
ব্রিটিশ নৌবাহিনী প্রথম এই অঞ্চলের সন্ধান পায় এবং "Swatch of No Ground" নামটি দেয়। এর কারণ ছিল, এই অঞ্চলে হঠাৎ করেই পানির গভীরতা এতটাই বেড়ে যায় যে ব্রিটিশদের ধারণা ছিল এখানে কোনো স্থলভাগ নেই। স্থানীয় জেলেরা এটিকে "নাই বাম" বলে, যার অর্থ – কোনো মাপ বা হিসাব নেই।প্রাকৃতিক গুরুত্ব ও জীববৈচিত্র্য
সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা (Marine Protected Area - MPA) ঘোষণা করেছে, যা এখানকার সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে। এখানে রয়েছে –- বিরল সামুদ্রিক প্রাণী, যেমন –
- বিভিন্ন প্রজাতির তিমি
- ইরাবতী ডলফিন (বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যা এখানে পাওয়া যায়)
- গোলাপী পিঠকূজ ইন্দো-প্যাসিফিক ডলফিন
- মসৃণ পিঠের (পাখা বিহীন) ইমপ্লাইস ডলফিন
- পপাস ডলফিন
- এটি বাণিজ্যিক মৎস্যসম্পদের অন্যতম প্রধান উৎস, যা বাংলাদেশের মৎস্য শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি
সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড বিশ্বের সেরা ১১টি গভীর সামুদ্রিক খাতের একটি এবং অনেকে এটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গভীর খাত বলে থাকেন। এটি প্রায় ১,২৫,০০০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু ভৌগোলিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের গবেষণা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত মূল্যবান।
বঙ্গোপসাগরের অতলস্পর্শী এক খাদের গল্প | Swatch of No Ground
Last edited: